মমিনুল ইসলাম মোল্লা হায়েযের রক্ত শুরু হওয়ার সাথে সাথেই মহিলারা রোজা ছেড়ে দিতে হয়। তারপর ভালভাবে পবিত্র হওয়ার পর তারা নামায- রোজা আদায় করতে পারেন।
বর্তমানে ঋতু¯্রাব ও প্রসুতি অবস্থার ক্ষেত্রে মহিলাদের সমস্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। নবিজীর আমলে এত সমস্যা ছিল না। এসব সমস্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে জন্মনিরোধ জাতীয় পিল ব্যবহার। তাই সময়ে অসময়ে রক্তপাত হয়। এতে মহিলারা অনেক সময় বিভ্রান্ত হন। ইফতারের পর রক্তপাত হলে কেউ কেউ মনে করেন তার রোজা নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ ইফতারতো দূরের কথা সূর্যাস্তের পর পরই যদি তার ঋতু¯্রাব আসে, তারপরও তার সেদিনের রোযা পূর্ণ এবং শুদ্ধ হবে। কোন মহিলা যদি রক্ত আসার ভাব /অনুভব করে অথবা তার অভ্যাস অনুযায়ী ব্যাথা অনুভব করে অথচ সূর্যাস্তের পূর্বে রক্ত বের না হয় তাহলে তার ঐদিনের রোজা শুদ্ধ হবে। ফরজ রোজা হলে তা আর কাযা করতে হবে না। নামাযের সময় শুরু হওয়ার পর যদি কেউ রক্ত দেখতে পায় হয় তাহলে পবিত্র হওয়ার পর সে ঐ ওয়াক্তের নামাজ কাযা করতে হবে। যদি সে ঐ ওয়াক্তের নামায আদায় করে না থাকে। এব্যাপারে রাসূল সাঃ বলেন, য়ে ব্যক্তি নামাযের এক রাকাত পেল, সে পুরো নামাযই পেল। ( বোখারি)। মহান আল্লাহ বলেন, “ অতপর যখন তোমরা নিরাপদ হও তখন তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর। নিশ্চয়ই নামায বিশ্বাসীগণের উপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত ( আন নিসা-১০৩ ) । পবিত্রতার ব্যাপারে তাড়াতাড়ি করা যাবে না। রক্ত শুকিয়ে গেলেও নিশ্চিত পবিত্রতা অর্জণের আগেই তাড়াহুড়ো করে গোসল করা উচিত নয়। একারণে মহিলা সাহবীগণ আয়েশা রাঃ এর নিকট রক্তযুক্ত তুলা পাঠাতেন আর তখন তিনি বলতেন, “ সাদা জাতীয় পদার্থ না দেখা পর্যন্ত তোমরা তাড়াহুড়া করে কিছু করবে না ( বোখারি)। যেদিন হায়েজ-নিফাসের কারণে প্রথম রোজা ভাঙ্গা গেল ওই দিন রোজার সম্মনার্থে ইফতার পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা ভালো। পরে এ রোজা কাযা করে করবে। এব্যাপারে কুরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করা যায়। “ এ হচ্ছে আসল ব্যাপার ( এটি বুঝে নাও) আর যে ব্যক্তি আল্লাহ নির্ধারিত রীতিনীতির প্রতি সম্মান দেখায়, তার সে কাজ তার অন্তরের আল্লাহ ভীতির পরিচায়ক ( সুরা হজ্জ- ৩২)। ঋুুতুবতী ও প্রসুতি মহিলারা রমজান মাসে দিনের বেলায় খাওয়া দাওয়া করতে পারবেন। তবে উত্তম হলো যদি তাদের নিকটে কোন ছোট ছোট ছেলে মেয়ে থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে খানাপিনা গোপনে করা উচিত। কেননা প্রকাশ্যে খেলে তাদের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। কোন মহিলা যদি রক্ত দেখতে পায় কিন্তু সে নিশ্চিত নয় যে সেটা রক্ত¯্রাবের রক্ত তাহলে ঐদিনের রোযা শুদ্ধ হবে । কেননা নারীর ঋতু স্পষ্টভাবে দেখা দিলে সে রোজা ছেড়েে দেবে। প্রত্যেক মহিলাকে তার ঋুুতুর সময়ের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। এব্যাপারে উদাসিন হলে চলবে না। কোন কোন সময় মহিলারা রক্তের সামান্য আলামত দেখতে পায় অথবা সারাদিনে বিচ্ছিন্নবাবে খুব অল্প কয়েক ফোঁটা রক্ত দেখতে পায়। আর এটা সে কখনও প্রত্যেক মাসের ঋতু¯্রাবের নির্ধারিত সময়ে কিন্তু ঋতু না আসা অবস্থায় দেখতে পায় , আবার কখনও অন্য সময় দেখতে পায়। তাহলে ঋতু¯্রাবের রক্ত বলে নিশ্চিত হলে সে রোজা ছেড়ে দেবে। ইস্তেহাযা মহিলাদের এধরণের রোগ। এতেও রক্ত প্রবাহিত হয়। এটি এমন রক্ত যা ঋতু ¯্রাব ও প্রসুতির সময় ছাড়া অন্য সময়ে বের হয় হয় অথবা এ দু অবস্থার পরপরই বের হয়। সে কারণে কোন মহিলার হায়েয ও নিফাসের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকলে যদি ঐ সময়সীমা অতিক্রম করে তার রক্ত চলে তাহলে তাকে ইস্তেহাযা বলে। এটি মূলত এক ধরণের রোগ। ইস্তেহাযা অবস্থায় মহিলারা নিজ ঘরে ওয়াজিব , সুন্নত, ও নফল ইতিকাফ করতে পারেন। এ অবস্থায় রোজা রাখা সহীহ এবয় জরুরী রোজা না রাখার অনুমতি নেই। কোনটা হায়েযের রক্ত আর কোনটা ইস্তেহাযার রক্ত তা মা-বোনদের বুঝতে হবে। এ দুয়ের মধ্যে কয়েকটা সুস্পষ্ট পার্থক্য হলো ১. ইস্তেহাযা লাল রঙের হয় পক্ষান্তরে হায়েজ হয় কালো রঙের অথবা গাঢ় লাল ( প্রায় কালো) রঙের। ২. ইস্তেহারায় গন্ধ থাকে না। পক্ষান্তরে হায়েজের দুর্গন্ধ থাকে। ৩. ইস্তেহারার রক্ত বের হওয়ার পর জমাট বদ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু হায়েয কখনও জমাটবদ্ধ হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হায়েয প্রচুর পরিমানে হয়। কিন্তু ইস্তেহাযা কম পরিমানে হয়। ৫. হায়েজ পেট ব্যাথার সৃষ্টি করে কিন্তু ইস্তেহাযা বেদনা সৃষ্টি করে না। ৬. হায়েয খুব গাঢ় হয়। কিন্তু ইস্তেহাযা পাতলা হয় ইত্যাদি দেখলে একজন মহিলা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কখন রোজা ছাড়বেন। ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলা শুধুমাত্র অন্যান্য মাসের ঋতু¯্রাবের দিনগুলোর সমপরিমান সময় অপেক্ষা করবে এবং এরপর বাকী দিনগুলোতে গোসল করে নামায আদায় করবে। যদি রমযান মাসে দিনের বেলায় কোন মহিলার সামান্য রক্তের ফোঁটা পড়ে এবং সারা রমযান এই রক্ত চালু থাকা অবস্থায় সে রোযা রাখে তাহলে তার রোযা শুদ্ধ হবে। এ রক্ত শিরা থেকে আসে। আলী (রাঃ )থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন, এই রক্ত বিন্দুগুলো নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মত এগুলো ঋতু¯্রাব নয়। ”এজন মহিলার যতদিন সাধারণত ঋতু থাকে। ততদিন পার হওয়ার পর সে যদি রক্তমুক্ত হয় তাহলে গোসল করে পবিত্র হয়ে যাবে। এর দু তিনদিন পর যদি আবার শুরু হয় তা মূলত রক্ত¯্রাব নয়। কেননা একটি বর্ণনায় পাওয়া যায় একজন মহিলার পবিত্র থাকার সর্বনি¤œ মেয়াদ হচ্ছে ১৩ দিন। অর্থাৎ দুই হায়েযের মাঝে ১৩ দিন ব্যবধান থাকবে। রমযানের দিবসে গর্ভবতী মায়ের রক্ত বের হলে রোযায় কোন প্রভাব ফেলবে কি না এ নিয়ে অনেকে চিন্তায় পড়ে যান। এব্যাপারে কোন মহিলা রোযা থাকা অবস্থায় যদি তার ঋুুতুর রক্ত আসে তাহলে তার রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। রাসুল সাঃ বলেন, “ মহিলার বিষয়টা কি এমন নয় যে, যখন সে ঋুুবতী হয় , তখন সে নামায আদায় করে না এবং রোযা রাখে না ( বুখারি, রোজা অধ্যায়) ? ধারাবহিক ভাবে রোযা পালনের সুবিধার্থে অনেক মা- বোন পিল খেয়ে ঋতু বন্ধ করতে চান। এ ব্যাপারে আলেমদের বক্তব্য হচ্ছে- তা করা যেতে পারে। তবে ডাক্তারগণের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত যে এতে মহিলাদের ক্ষতি হতে পারে তাই আদম সন্তানের নারীকূলের জন্য যে বিধান দেয়া হয়েছে তা মেনে নেয়াই ভাল। গর্ভপাত হওয়ার পর কত দিন নামায - রোযা থেকে একজন নারী বিরত থাকবে ? এ ধরণের প্রশ্ন প্রায়শই শোনা যায় গর্ভপাত সন্তান আকৃতি ধারণ এর পূর্বে বের হলে সেই রক্তকে প্রসূতি অবস্থার রক্তগণ্য করা হবে না। বরং সেটা কুরক্ত। হিসাবে বিবেচিত হবে এবং এটি তাকে নামায - রোযা থেকে বিরত রাখবে না। বিশেষজ্ঞ মহল বলেন, বাচ্চা অঅকৃতি ধারণ এর সর্বনি¤œ সর্ব¤িœ সময় ৮১ দিন। ঋতুগ্রস্ত নারীর ঋুুর শেষ দিনগুলোতে পবিত্র হওয়ার পূর্বে মহিলারা সাধারণত রক্তের চিহ্ন দেখতে পায় না। এক্ষণে সাদা জাতীয় পদার্থ ( যা ঋুুর শেষের দিকে কোন কোন মহিলার হয়ে থাকে) না দেখা সত্তেও সে রোজা রাখবে। পক্ষান্তওে সাদা জাতীয় পদার্থ দেখা যদি তার অভ্যাস হয়ে থাকে তাহলে তা না দেখা পর্যন্ত সে রোযা রাখবে না। কোন মহিলারমঋতু¯্রাবের সময়সীমা যদি প্রত্যেক মাসে আট অথবা সাত দিন হয় কিন্তু দেখা গেল মাঝে মধ্যে অভ্যাসভঙ্গ কওে ২/১ দিন বেশী সময় ধওে ঋতু¯্রাব চলে তাহলে সে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তিনি সিয়াম পালন করতে পারবেন না। কেননা নবী সাঃ ঋতু¯্রাবের কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেননি। অধর অধল্লাহতায়ালা বলেছেন, - তারা ওুামাকে মহিলাদেও ঋতু¯্রাব সমএন্ধ জিজ্ঞেস কওে তুমি বলে দাও সেটা হচ্ছে কষ্টদায়ক বস্তু। ( সুরা অধল বাকারা ২২২)সুতরাং এই রক্ত থাকাকলীন সময়ে মহিলারা আপন অবস্থায় থাকবে , তারপর ভাল হয়ে গেলে গোসল কওে নামায ও রোজা পালন করবে। তেমনিভাবে পরবর্তী মাসে যদি গত মাসের তুলনায় কম দিনে ঋতু বন্ধ হয়ে যায় তাহলে সে গোসল কওে নিবে এবং নামায রোজা সহবাসসহ যথানিয়মে সকল কাজ করতে পারবে। গর্ভবতী মহিলা যদি সন্তান প্রসবের ২/১ দিন আগে রক্ত দেখতে পায় এবং তার সাথে প্রসব বেদনা থাকে, তাহলে এটি প্রসূতি অবস্থার রক্ত। এ কারণে সে নামায -রোযা পরিত্যাগ করবে। কিন্তু যদি তার সাথে প্রসব বেদনা না থাকে, তাহলে এটি কুরক্ত। এ রক্ত তাকে নামায রোযা থেকে বিরত রাখবে না। গর্ভবতী রোজাদার মহিলারা যদি রোযা রাখার কারণে বাচ্চার জীবন নাশের আশংকা থাকে তবে রোজা ভেঙ্গে ফেলা জায়েজ। শুধুমাত্র দুধ কম পাবে এ অজুহাতে রোজা ভঙ্গ করা যাবে না। পরবর্তীতে এ রোযা কাযা করতে হবে। সদ্য সন্তান প্রসবকারিনী নারী চল্লিশ দিনের আগে যখনই পবিত্র হবে তখনই তার উপর রোজা অপরিহার্য হবে। কিন্তু যদি তাা ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে চলে তাহলে বুঝতে হবে সে ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলা। ঘোলা বা হলুদ রঙের রক্ত বের হলে অথবা ২/১ ফোঁটা যে রক্ত আসবে অথবা সামাণ্য যে সিক্ততা অনুভ’ত হবে, সেগুলো আসলে ঋতু¯্রাব নয়। সে কারণে ্এগুলো তাকে নামায-রোযা থেকে বিরত রাখবে নাএবং স্বামীকে স্ত্রীসহবাস থেকেও বাাঁধা দিবে না। উম্মে আতিয়া রাঃ বলেন, “ ঘোলা বা হলুদ রঙের যা বের হয় তাকে আমরা কিছুই গণ্য করতাম না ( বুখারি)। কখন রক্ত বন্ধ হল কখন নামায রোযা করতে হবে এ নিয়ে মা-বোনেরা সন্দেহে পতিত হন। এজন্য বড় বোনদের নিকট থেকে বাস্তবসম্মত জ্ঞান নেয়া উচিত। কেননা ভুল হলে খেসারত দিতে হবে। বুখারি ও মুসলিমের বর্ণিত হাদিসের নিয়মানুযায়ী গোসলের পদ্ধতি হচ্ছেঃ প্রথমে নিয়ত করবে,অতঃপর বিসমিল্লাহ বলে দু হাত কব্জি পর্যন্ত তিন বার ধৌত করবে। লজ্জাস্থানে পানি ঢেলে উহা পরিষ্কার করবে। তারপর পূর্ণরুপে উযু করবে। মাথায় পানি ঢেলে আঙ্গুল চালিয়ে চুল খিলাল করবে। যখন বুঝবে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে গেছে তখন মাথায় তিনবার পানি ঢালবে এবং সমস্ত শরীওে পানি ঢালবে। এক্ষেত্রে ডান সাইড থেকে কাজ আরম্ভ করবে ( আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত) । আয়েশা রাঃ হতে বর্ণিত, জনৈকা নারী তাকে জিজ্ঞেম করলো, ঋুুতুবতী নারী রোযার কাযা করে অথচ সালাতের কাযা করেনা। তিনি বল্লেন, আমাদের রোযা কাযা করার আদেশ দেয়া হয়েছে , আর সালাত কাজা করার আদেশ দেয়া হয়নি ( বুখারি ৩২১/৩৩৫)। একজন প্রসূতি মহিলা যদি সাতদিন রোযা ভাঙ্গে , স্তনদানকারিনী হিসাবে পরবর্তী রমজানের সাতদিন অতিবাহিত করে তথাপিও অসুস্থতার অজুহাতে কাযা করেনি তৃতীয় রমজান ও এসে গেছে এমন হলে তার সমাধান হলোঃ সে যদি সত্যিই অস্স্থু হয়ে থাকে এবং কাযা আদায় করতে সক্ষম না হয়, তাহলে যখনই সক্ষম হবে তখনই সমস্ত কাযা আদায় করতে হবে। কিন্তু যদি তার ওযর না থাকে বরং অহেতুক অজুহাত দেখায় এবং বিষয়টা তুচ্ছ জ্ঞান করে তাহলে তার জন্য এক রমযানের কাযা অন্য রমযান পর্যন্ত বিলম্বিত করা বৈধ নয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি রমজান মাসে রোজা রাখল এবং এ রোজার পর শাওয়াল মাসে ৬টি রোজা রাখল সে যেন গোটা বছর রোজা রাখল ( মুসলিম-১১৬৪)। হাদিস অনুযায়ী আগে ভাংতি রোজা পূরণ করতে হবে এবং পরবর্তীতে শাওয়ালের ৬ রোজা থাকতে হবে। লেখকঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক , সাংবাদিক ও ধর্মীয় গবেষক, কুমিল্লা
মমিনুল ইসলাম মোল্লা, রাসুলে আকরাম (সাঃ) বিশ্ববাসীর জন্য রহমতরুপে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি স্বাস্থ্য রক্ষায় বহু নির্দেশনা দিয়ে গেছেন এগুলো বর্তমানে মুসলিম ও অমুসলিম চিকিৎসাবিজ্ঞানীগণও যুক্তিসঙ্গতভাবে অনুসরণ করেছেন।
আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন বলেছেন, “ আমি আপনাকে পৃথিবীতে রহমতস্বরুপ প্রেরণ করেছি। ” রহমত শুধুমাত্র জান্নাত/জাহান্নাম সম্পর্কিত বিষয়েই নয়। পার্থিব জীবনেও তার নির্দেশ পালন মুসলমানদের জন্য অবশ্য কর্তব্য। মুসলমানদের উপর ৫ ওয়াক্ত নামাযকে সময়মত পড়ার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে। নামাযের মধ্যে শেফা রয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার আমার পেটে ব্যাথা হচ্ছিল, তখন রাসুল (সাঃ) আমার দিকে মনযোগ দিয়ে ইরশাদ করেন, তোমার পেটে কি ব্যাথা হচ্ছে ? আমি বল্লাম. জ্বী হ্যা, হে আল্লাহর রাসুল । রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন- “ দাঁড়াও এবং নামায আদায় কর। কেননা নামাযের মধ্যে শেফা রয়েছে ( সুনানে ইবনে মাজা-৩৪৫৮)। ডাক্তার মুহাম্মদ আলমগীর খানের মতে, নামায থেকে যেমন আত্মিক আনন্দ এবং প্রশান্তি লাভ হয়, ঐরুপ এর মধ্যে দৈনিক স্বাস্থ্যের বিষয়াদি মওজুদ আছে। ” নামাজের আরকান যদি উত্তমভাবে এবং নিয়ম মতো আদায় করা যায়। তাহলে এর দ্বারা কয়েক প্রকারের শারিরিক রোগ থেকেও মুক্তি অর্জন সম্ভব। আল্লাামা মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আসসালিহী “ সুবলুল হুদা ” এর মধ্যে উল্লেখ করছেন , যদি জ্ঞানের একশত অংশ ধারণা করা যায় তাহলে তার মধ্যে ৯৯ ভাগ আল্লাহতায়ালা স্বীয় নবীকে প্রদান করেছেন। ( সুবুলুল হুদা খন্ড ৭, পৃ ১১ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ছালেহী )। ইসলামে জ্বীনা ব্যাভিচারের স্থান নেই। যখন কোন যুবক -যুবতী একককীত্ব অবলম্বন করে তখন তাদের তৃতীয় সঙ্গী হচ্ছে শয়তান। সমাজে জ্বিনা ব্যাভিচার বেড়ে গেলে সেখানে আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হয়। আস্তে আস্তে তা ধ্বংসে পতিত হয়। এক হাদিসে রাসুল সাঃ বলেন, যে সমাজে জ্বিনা ব্যভিচার বেড়ে যায় সেখানে মহামারি দেখা দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, পর্নোগ্রাফী , মাদকদ্রব্য ইত্যাদি নেশাজাত দ্রব্য। এসব দ্রব্য সেবনে যারা জড়িয়ে পড়ে তাদের ব্রেণের ফরেন্টাল এরিয়ার , আমাদের পরিচালনা করার ইনটেলেক্চুয়াল সেলগুলো থর থর করে কাঁপতে থাকে এবং অস্থির হয়ে যায়, তার ফলে অসুস্থের মত জীবন যাপন করে এবং তা তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। অজুর মাধ্যমে আমরা পবিত্রতা লাভ করি। এসময় আমরা হাতের কব্জি, মুখমন্ডল, মুখের ভেতর, কনুই পর্যন্ত হাত, মাথামাসহ ও দুই পা গোড়ালি পর্যন্ত ধুয়ে থাকি ( মুসলিম)। অন্যদিকে বিজ্ঞান দ্বারাও অজুর উপকারিতা প্রমাণিত। ডাঃ মুহাম্মদ তারেক মাহমুদ বর্ণনা করেছেনঃ অযুর দ্বারা শরীরের ঐ অংশ পরিষ্কার হয় যে অংশটুকু শরীরে রোগ বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণের মাধ্যম। আধুনিক বিজ্ঞান বিজ্ঞানীদেও মতে , ব্যক্টেিেরয়া, ভাইরাস, ও অন্যান্য এমন সব ক্ষুদ্র জীবানূ আকাশে বাতাসে বিচরণ করছে যা সব সময় মানুষের মুখ, চোখ, নাক, কান, এমনকি লোমকুপসহ বিভিন্ন পথ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। ঘুম থেকে উঠে অজুর পানিতে হাত দেয়ার আগে ভাল ভাবে দু হাত পরিষ্কার কারার কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের মতে, হাতে সাধারণত ময়লা ও জীবানু থাকে। মুখে পানি দেয়ার পূর্বে সে জীবানু পরিষ্কার না করলে তা মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। আমরা ভাত খাওয়ার পর ভালভাবে কুলি করি। এছাড়া ওজু করার সময় গড়গড়ার সাথে কুলি করতে হয়। যদি খাদ্য কনা দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকে তাহলে তাতে ব্যক্টেিেরয়ার বিস্তরণ ঘটে। এ ব্যক্টেরিয়া প্রতি ৩০ সেকেন্ড অন্তর অন্তর ২টি করে বাচ্চা জন্ম দিতে পারে। এ ব্যক্টেরিয়া অনুবিক্ষণ যন্ত্র ছাড়া খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। দন্ত চিকিৎসকগণ মনে করেন দাঁতের রোগের প্রধান কারণ দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাদ্যকনা। তাছাড়া এ খাদ্য পাকস্থলীতে গিয়ে রোগের সৃষ্টি করে। ফ্রান্সের প্রাচ্যবিদগণ একথা স্বীকার করেছেন যে, রাসুল সাঃ বুঝ ও মতের দিক দিয়ে অত্যন্ত পরিপূর্ণ ছিলেন। তিনি লিখেছেনঃ রাসুলুল্লাহ সাঃ তিনি তো সম্পূর্ণ নিরক্ষর ছিলেন ( যিনি কোন শিক্ষকের নিকট পড়েননি) ছিলেন। অথচ জ্ঞান ও মতামতের দিক থেকে সকলের থেকে ধীশক্তি সম্পন্ন ছিলেন। খাদ্য শরীরের মাঝে বিভিন্ন পরিবর্তনের মাধ্যমে দেহকে শক্তি যোগান দিয়ে থাকে। মানুষ যদি সাময়িক সময়ের জন্য খাদ্য ,খাওয়া থেকে বিরত থাকে তাহলে শক্তি ভান্ডার থেকে তার চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের পরিপ্রেক্ষিতে কমপক্ষে একমাস শক্তি সরবরাহ করতে পারে। তাই রোজার মধ্যে যে অসংখ্য উপকার রয়েছে তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমানিত। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সিয়াম সাধনা করলে ( সওয়াব ছাড়াও ) স্বাস্থ্য লাভ করবে। ( তাবরানী) । সিয়াম মানুষকে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ কওে ডায়াবেটিস , স্থুলকায়ত্ব, ও বিভিন্ন রোগে রোজা নিরাময়ক হিসাবে কাজ করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানী ম্যাক ফ্যাডেন বলেছেন- সিয়াম সাধনা করলে বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ সাধিত হয়।” ইসলাম বিবাহ বহির্ভুত নারী-পুরুষের মেলামেশা নিষিদ্ধ করেছে। এত মুসলমানদের জন্য বহু কল্যাণ রয়েছে। ১৯৮১ সালে এইডসের জীবানূ সনাক্ত করা হয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসাবে অবাধ যৌনাচারকে বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন। আমেরিকার বিখ্যাত গবেষক চিকিৎসক ডনডেস সারলাইস বলেন, বিভিন্ন দরণের পতিতা ও তাদের পুরুষ সঙ্গীরা এইডস সৃষ্টি ও লালন-পালন করে ছড়ায়। ইসলাম হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীগমণ সম্পূণূরুপে নিষিদ্ধ করেছে। এটিও একটি বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত। ডাঃ মোহাম্মদ গোলাম মুযায়যাম তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন, ঋতুুর সময় স্ত্রী মিলন নিষিদ্ধ হওয়া সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যনীতি সম্মত যুক্তিভিত্তিক। ঋুতুর সময় জরায়ুর নি¤œমুখ স্বাভাভিক বন্ধ অবস্থায় থাকে না। তখন এর মুখ কোলঅ থাকে ফলে রক্ত বের হতে পারে। সেসময় রোগ জীবানূ পুরুষেরও ক্ষতি করতে পারে। তাই ডাঃ গ্রাহাম বলেন, ঋতুর সময় মিলন নিষেধ করার কারণ মানসিক নয় বরং স্বাস্থ্য বিজ্ঞান সম্মত। বর্তমানে ডাক্তারগণ রোগীদেরকে বিভিন্ন দরণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছেন। প্রকৃতপক্ষে সুন্নতী নিয়মে খাওয়া-দাওয়া করলে সাধারণত কোন রোগ আক্রমণ কওে না। এশবার কোন এক রাষ্ট্র প্রধান মহানবী সাঃকে উপঢৌকন হিসাবে একজন চিকিৎক পাঠিয়েছেন মদীনায়। চিকিৎসক মদীনায় অনেকদিন থাকলেন। কিন্তু কোন রোগীর দেকা পেলেন না। অবশেষে তিনি নবিজীর নিকট বল্লেন, আমি চলে যেতে চাই। কারণ মদিনঅয় আমি এসেচি চিকিৎমকের দায়িত্ব পালনের জন্য। কিন্তু এপর্যন্ত কোন রোগীর দেখা পাইনি। “ রাসুলের আকরাম সাঃ বলেন- “ আমরা পেটে ক্ষুধা লরাগলে খাই এবং পেট পূর্ণ হওয়ার আগে খাওয়া বন্ধ করি এবং পেট স্বাভাবিক কোন রোগ হয না। রাসুল সাঃ বলেছেন- ধুমপান করা ও জর্দা খাওয়অ হারাম। ( সহিহ বুখারি ৬১২৪ )। বিজ্ঞান দ্বারাও ধূমপানের ক্ষতি প্রমানিত । এর প্রভাবে ফুসফুসের ক্যান্সার ব্যংকাইটিস ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যায়। ধুমপান করলে ঠোঁট ও দাঁতের ক্ষতি হয়। এয়াড়া পুরুষের যৌনশক্তি ও স্মৃতিশক্তি কমে যায়। খাওয়ার পর অঅঙ্গুল চেেেট খাওয়া সুন্নত।( তিরমিযি)। চিকিৎসা বিজ্ঞান এ মত সমর্থন করেছেন। খাওয়া শেষ হলে আঙ্গুল চাটার সময় মুখের ভেতর সেলিভারি গ্লান্ড থেকে টায়ালিন নামক এক প্রকার পাচক রস বের হয়, যা কাবার পাকস্থলী থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পূর্বে প্রায় অর্ধেক হজম হয়ে যায়। ইসলামে শুকরের মাংস খাওয়া নিষেধ রয়েছে। শুকরের মাংস অপবিত্র ও ক্ষতিকর। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন শুকরের মাংস থেকে ট্রিচিনিয়াসিস এক প্রকার কৃমির জন্ম হয়। এটি সহজেই মানুষের পেটে চলে যায় । কৃমির শুক্রকীট মাংসে পাওয়া যায়। জীববিজ্ঞানীগণ বলেন, যে প্রাণীর গোস্ত অথবা দুধ খাওয়া হয় সে প্রাণীর স্বভাব কিছুটা তাদের উপর প্রতিফলিত হয়। ইসলাম মদকে নিষেধ করেছে। মদ্যপান করার পর নামাজ আদায় করা নিষেধ। এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিজ্ঞান একে ক্ষতিকর বলছে। আমেরিকার ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি মেডিকেল প্রফেসর ডাক্তার লোহর জয়ের একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়ৈছে মদের নেশার প্রভাব পড়ে ব্রেণের উপর। উহা পান করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রক্তের সাথে মিশে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তাই অল্প পরিমান সেবন করলেও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না। আমরা পায়খানা-পেশাব করার পর কাগজের তৈরি টিসু ব্যবহার করে থাকি। অথচ রাসুল সাঃ ইস্তিন্জার জন্য মাটির ঢিলা ব্যবহার করতেন। এ ঢিলা বিজোড় সংখ্যক ব্যবহার করা সুন্নত। ঢিলা ব্যবহার সম্পর্কে ডাক্তার হালুক বলেন, মাটি জীবাণু ধ্বংসকারী এবং ক্যান্সার প্রতিরোধক। লজ্জাস্থানে ক্ষত রয়েছে এমন রোগীকে ডাক্তারগণ ঔষধ হিসাবে মাটির ঢিলা ব্যবহার করার পরমর্শ দেন। এতে রোগীরা উপকার পাচ্ছেন এবং দ্রুত সুস্থ হচ্ছেন। অনুসন্ধানে জানা যায় টিসু পেপারে অনেক ধরণের ক্ষতি হতে পারে। নরম কোমল চিকন টয়লেট পেপার তৈরিতে এমন ক্ষতিকর পদার্থ ব্যবহার করা হয় যার কারণে চর্ম রোগ , এক্সিমাসহ বহু জটিল রোগ হতে পারে। পানির ব্যবহার কমানো এবং টিসু পেপার ব্যবহারে লজ্বাস্থানের ক্যন্সার হতে পারে। পায়খানায় জুতা পায়ে , মাথা আবৃত করে যাওয়া সুন্নত ( যাদুল মা”দ)। এটি বিজ্ঞান দ্বারাও প্রমাণিত। এতে রোগ জীবাণু বিশেষ করে কৃমির জীবানু পায়ের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। রাসুল সাঃ বলেছেন- পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম ( মুসলিম )। বিজ্ঞানের মাধ্যমে পুরুষের স্বর্ণ ব্যবহার এর ক্ষতির কথা বলা হয়েছে। স্বর্ণ যেহেতু যৌগিক পদার্থ তাই তা স্কীনের সাথে মিশে ব্লাডের মাধ্যমে মস্তিষ্কে চলে যায়। আর তার পরিমান যদি বেশি হয় তাহলে মানুষ আগের স্মৃতি সব হারিয়ে ফেলতে পারে। বায়হাকী শরিফে আছে- জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাঃ দাঁড়িয়ে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন। ইসলাম বসে পেশাব করতে নির্দেশ দান করে। কেননা দাঁড়িয়ে পেশাব করার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের ক্ষতি হয়ে থাকে। দাঁড়িয়ে পেশাব করলে পেশাবের ছিটা কাপড়ে এবং পায়ে লাগে। এছড়া এতে প্রোস্টেটিটিস এর উপর চাপ পড়ে এবং প্রসারিত হয়ে বেড়ে যায়। এত পেশাবের রাস্তা বাধাগ্রস্ত হয়, ফোঁটায় ফোটায় পেশাব বের হয় এতে বিভিন্ন রোগের জন্ম হয়। ইসলাম আমাদেরকে ডান কাতে ঘুমানোর পরামর্শ দেয়। বিজ্ঞান বলে ডান কাত হয়ে ঘুমালে হার্ট ভালো করে পাম্প করে। মুসলমানরা সকাল বিকাল ছাড়াও প্রত্যেক নামাজের পূর্বে মিসওয়াক করেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) ইরশাদ করেন ইহা মাড়ির ব্যাথা দূর করে দাঁত উজ্জল রাখে এবং স্মৃতিশক্তি ও বেড়ে যায়। মষিÍষ্কের শক্তি অর্জিত হয় এবং এর দ্বারা জীবানু ধ্বংস হয়। রাসুল সাঃ বলেছেন- পুরুষের প্যান্ট/ কাপড় টাখনুর উপর পড়তে , অন্যথায় তা জাহান্নামে যাবে ( সহিহ বুখারি -৫৩৭১ )। বিজ্ঞান বলে- পুরুষের টাখনুর ভিতর প্রচুর পরিমানে সেক্চুয়াল হরমোন থাকে এবং তার আলো বাতাসের প্রয়োজন । তাই কেউ যদি তা ঢেকে রাখে তাহলে তার যৌনশক্তি কমে যাবে এবং রোগাক্রান্ত হবে। বিজ্ঞানীরা যখন কোন জটিল সমস্যায় পড়েন মুসলিম/ অমুসলিম সকল বিজ্ঞানী কুরআন- সুন্নাহ থেকে তার সমাধান খোঁজেন। জটিল সমস্যার সমাধান পেয়ে তারা বিস্মত হচ্ছেন ১৪০০ বছর পূর্বে তার সমাধান দেয়া আছে। যা দেখে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, দেড় হাজার বছর পূর্বে মহানবী সাঃ যে পদ্ধতি ও অভ্যাসের উদাহরন দেখিয়ে গেছেন, সে অভ্যাস বর্তমানকালের যদি কেউ নিয়মিত পালন করে তবে তার স্বাস্থের জন্য আর নতুন কোন পরামর্শের দরকার হবে না। তাই বলা যায় ইসলাম বেগডেটেড নয় সবসময় আপটুডেট এবং বিজ্ঞানসম্মত ধর্ম। লেখকঃ মমিনুল ইসলাম মোল্লা, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক ও সাংবাদিক, ধর্মীয় গবেষক, কুমিল্লা।
মমিনুল ইসলাম মোল্লা যিকির শব্দের অর্থ আল্লাহকে স্মরণ করা। এটি আত্মার খোরাক, জিকির বিহীন আত্মা মৃতের শামিল। তবে যিকির হতে হবে আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেশিত পথ অনুযায়ী।
অন্য কারো উদ্দেশে চিল্লা-চিল্লি করে অথবা অনর্থক শব্দ উচ্চারণ করলে যিকির শুদ্ধ হবে না। হযরত আবু হোরায়রা মহানবী সাঃ থেকে বর্ণনা করেছেন-মহান অঅল্লাহ তায়ালা বলেছেন-যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা আমাকে স্মরণ করতে থাকে (আমার যিকির করতে থাকে ) অথবা আমার স্মরণে তার ওষ্ঠদ্বয় যতক্ষণ পর্যন্ত নড়তে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তার সাথে থাকি। (ইবনে মাজা) যিকরের প্রধান উদ্দেশ্য আল্লাহকে খুশি করা। মহান আল্লাহ যার উপর খুশি তার পরকালে কোন ভয় নেই। দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের সমাজে “ জীবন-মরণ নাও ভাসাইলাম---বাবার নামে, বাবা তোমার পাইলে দেখা বেহেস্তের আর দরকার নাই ( নাইউজু বিল্লাহ), এমন যিকির করতে দেখা যায়। এছাড়া ছয় লতিফার যিকির , তবলার তালে তালে যিকির, ইল্লাল্লাহ, ইল্লাল্লাহ, হু, হু এর যিকিরে কোন ফায়দা নেই। মানুষের তৈরি করা এসব যিকিরে শরীর গরম হলেও ঈমান হয়ে যায় ঠান্ডা। তাই এসব যিকিরে আল্লাহ খুশি হওয়ার পরিবর্তে বেজার হওয়াই স্বাভাবিক। এ ব্যপারে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে-মুমিনগণ তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমানে স্মরণ কর। ( আল আযহাবঃ ৪১) আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক উপায়ে যিকির করার তওফিক দিন। আমিন, ছুুম্মা আমিন। লেখকঃ মমিনুল ইসলাম মোল্লা, প্রভাষক ও সাংবাদিক, ধর্মীয় গবেষক, কুমিল্লা
(১) এক রাক‘আত বিতর না পড়া : বিতর মূলতঃ এক রাক‘আত। কারণ যত স্বলাতই আদায় করা হোক এক রাক‘আত আদায় না করলে বিতর হবে না।
এ মর্মে অনেক সহিহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এক রাক‘আত বলে কোন স্বলাতই নেই, এই কথাই সমাজে বেশী প্রচলিত। উক্ত মর্মে কিছু উদ্ভট বর্ণনাও উল্লেখ করা হয়। ✔ (أ) عَنْ أَبِىْ سَعِيْدٍ أَنَّ النَّبِىَّ نَهَى عَنِ الْبُتَيْرَاءِ أَنْ يُّصَلِّىَ الرَّجُلُ وَاحِدَةً يُوْتِرُ بِهَا. (ক) আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) এক রাক‘আত বিতর পড়তে নিষেধ করেছেন। তাই কোন ব্যক্তি যেন এক রাক‘আত স্বলাত আদায় করে বিজোড় না করে।[1] তাহক্বীক্ব : আব্দুল হক্ব বলেন, উক্ত বর্ণনার সনদে ওছমান বিন মুহাম্মাদ বিন রবী‘আহ রয়েছে।[2] ইমাম নববী বলেন, এক রাক‘আত বিতর নিষেধ মর্মে মুহাম্মাদ বিন কা‘ব-এর হাদীছ মুরসাল ও যঈফ।[3] উক্ত বর্ণনা গ্রহণযোগ্য না হলেও ‘হেদায়ার’ ভাষ্য গ্রন্থ ‘আল-ইনাইয়াহ’ কিতাবে তাকে খুব প্রসিদ্ধ বলে দাবী করা হয়েছে। অর্থাৎ এক রাক‘আত বিতর পড়ার বিরোধিতা করা হয়েছে।[4]
✔ (ب) عَنْ حُصَيْنٍ قَالَ بَلَغَ ابْنَ مَسْعُوْدٍ أَنَّ سَعْدًا يُوْتِرُ بِرَكْعَةٍ قَالَ مَا أَجْزَأْتُ رَكْعَةً قَطُّ (খ) হুছাইন বলেন, ইবনু মাসঊদ -এর কাছে যখন এই কথা পৌঁছল যে, সা‘দ এক রাক‘আত বিতর পড়েন। তখন তিনি বললেন, আমি এক রাক‘আত স্বলাতকে কখনো যথেষ্ট মনে করিনি’।[5] অন্যত্র সরাসরি তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা এসেছে, عَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ مَا أَجْزَأْتُ رَكْعَةً قَطُّ ইবনু মাসঊদ বলেন, আমি কখনো এক রাক‘আত স্বলাত যথেষ্ট মনে করি না’।[6] তাহক্বীক্ব : ইমাম নববী উক্ত আছার উল্লেখ করার পর বলেন, এটি যঈফ ও মাওকূফ। ইবনু মাসঊদের সাথে হুছাইনের কখনো সাক্ষাৎ হয়নি। ইবনু হাজার আসক্বালানীও তাই বলেছেন।[7]