বগল বা নাভীর নীচের লোম ছাফ করতে লোমনাশক প্রসাধনী ব্যবহার করা যাবে কি?
প্রশ্ন (২/৩৬২) : কোন অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ কালে প্রচলিত চারটি কালেমা পাঠ করবে কি?-রেযাউল করীম, কাছনা, তরিটারী, রংপুর।
উত্তর : ইসলাম গ্রহণের সময় কেবল কালেমা শাহাদাত ‘আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহূ ওয়া রাসূলুহু’ পাঠ করাই যথেষ্ট। ছুমামা বিন উছাল, যিমাদ আযদী প্রমুখ ইসলাম গ্রহণকালে এই কালেমাই পাঠ করেছিলেন (মুসলিম হা/১৭৬৪, ৮৬৮; মিশকাত হা/৩৯৬৪, ৫৮৬০)। বাকী কালেমাগুলি যেকোন সময় পাঠ করা যায়।
প্রশ্ন (৩/৩৬৩) : মসজিদের ইমাম ছাহেব ছাত্রীরা বেপর্দায় চলে এরূপ সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন। এটা জায়েয হবে কি? এছাড়া যেসব এলাকায় প্রতিবেশী বেপর্দা নারীরা চলাফেরা করে, সেসব এলাকায় বাস করা জায়েয হবে কি?
-আব্দুল ওয়াহেদ, আদমদীঘি, বগুড়া।
উত্তর : সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী না করাই শরী‘আত সম্মত। এতে অনৈতিক সম্পর্কের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এরপরেও যদি চাকুরী করতে হয়, তাহ’লে উভয়কে কথায় ও কর্মে কঠোরভাবে পর্দা মেনে চলতে হবে। পুরুষ ও নারী সর্বদা পরস্পরে দৃষ্টি নত করে চলবে। নারীকে অবশ্যই তার পুরা দেহ আবৃত করতে হবে এবং এমনভাবে চলতে হবে যেন তার গোপন সৌন্দর্য প্রকাশিত না হয় (নূর ৩০-৩১)। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা সমূহের নিকটবর্তী হয়ো না’ (আন‘আম ৬/১৫১)।
এলাকায় থেকেই উপদেশের মাধ্যমে বেহায়াপনার মুকাবিলা করতে হবে। লূত (আঃ) তাঁর বেহায়া কওমকে তাদের মধ্যে থেকেই দাওয়াত দিতেন। যেজন্য তাঁর কওম তাঁকে লক্ষ্য করে বলেছিল, ‘তোমরা এদেরকে তোমাদের শহর থেকে বের করে দাও। এরা বড়ই সাধু থাকতে চায়’ (আ‘রাফ ৭/৮২)।
এরপরেও বাধ্যগত অবস্থায় দ্বীন বাঁচানোর স্বার্থে হিজরত করা জায়েয (ফাৎহুল বারী হা/২৮২৫-এর আলোচনা দ্রঃ)।
প্রশ্ন (৪/৩৬৪) : বগল বা নাভীর নীচের লোম ছাফ করতে লোমনাশক প্রসাধনী ব্যবহার করা যাবে কি?
-আল-আমীন, ঘোনাপাড়া, জয়পুরহাট।
উত্তর : লোমনাশক প্রসাধনী ব্যবহার করায় কোন দোষ নেই। হাদীছে উভয়স্থানের লোম ছাফ করতে বলা হয়েছে (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৫০)। হাদীছে নাৎফ ও হালাক্ব দু’টি পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে কষ্টদায়ক নয়, এমন যেকোন পদ্ধতি অবলম্বন করা জায়েয (মির‘আত হা/৩৮২-এর আলোচনা ২/৮০-৮১ পৃঃ)।
প্রশ্ন (৬/৩৬৬) : নাম পরিবর্তন করলে নতুন করে আকীকা দিতে হবে কি?
-মাহমূদুল হাসান, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।
উত্তর : নাম পরিবর্তন করলে আকীকা দিতে হবে না। রাসূল (ছাঃ) বহু মানুষের নাম পরিবর্তন করে দিয়েছেন (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৭৫৬ ‘শিষ্টাচারসমূহ’ অধ্যায়, ‘নামসমূহ’ অনুচ্ছেদ)। যেমন ওমর (রাঃ)-এর বোন ‘আছিয়ার নাম পরিবর্তন করে তিনি ‘জামীলা’ রেখেছিলেন। কিন্তু আকীকা করতে বলেননি (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৭৫৮)।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন